Header Ads

কেন কাতার বিশ্বকাপ হবে অন্য আসরগুলো থেকে আলাদা ও সেরা ?

 

কেন কাতার বিশ্বকাপ হবে অন্য আসরগুলো থেকে 

আলাদা ও সেরা?

এই বছর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ । কাতার বিশ্বকাপকে যে কারণ গুলোর জন্য ভাবা হচ্ছে ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ, তাই আজকে আমরা জানব আজকের প্রতিবেদনটিতে । 



১. ৩২ দলের অংশগ্রহণে এটাই শেষ বিশ্বকাপ


আমরা সবাই কম-বেশি জানি যে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ হতে চলেছে ৩২ দলের অংশগ্রহণে শেষ বিশ্বকাপ । পরের বিশ্বকাপ থেকে আমরা দেখতে চলেছি ৪৮ দলের অংশগ্রহণে প্রথম বিশ্বকাপ । যেখানে বিশ্বকাপটি হবে ৩ দেশের ১৬টি শহরে । মূলত যুক্তরাষ্ট্র তেই হবে পরের বিশ্বকাপ কিন্তু সাথে থাকবে সহযোগী দুই দেশ । যে দুই দেশ হলো কানাডা ও মেক্সিকো । আমেরিকার ১১ শহরে, মেক্সিকোর ৩ ও কানাডার ২ শহরে হবে [পরের ৪৮ দলের আসরটি । আর এই কারনেই মূলত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপটিকে ধরা হবে সেরাগুলোর মধ্য একটি হিসেবে । 

২. বড় তারকাদের শেষ বিশ্বকাপ 


আপনি মানতে চান আর না চান কাতার বিশ্বকাপ যে হতে চলেছে অনেক বড় তারকাদের শেষ বিশ্বকাপ এটা একদমই সত্যি । ডিসেম্বর এ শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বআসরের মধ্যে দিয়েই 
নিজদের ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন অনেক সুপারস্টার । 
দেখে নেওয়া যাক কাদের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপটি ।


লুকা মদরিচ

লুকা মদরিচ হলেন একজন ক্রোয়েশীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। বর্তমানে তিনি স্পেনের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর লা লিগার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের
হয়ে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন । এছাড়াও তিনি বর্তমানে ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ৩৬ বছর বয়সী মদরিচের যে ২০২২ বিশ্বকাপ দিয়েই 
নিজের ১৬ বছরের লম্বা জাতীয় দলের জীবন এর ইতি টানবেন তা এক প্রকার নিশ্চিত । এখন পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ১৫০ ম্যাচ খেলেছেন তিনি যা দলটির হয়ে খেলা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ 
কোন খেলোয়াড় হিসেবে । ১৫০ ম্যাচে এখন পর্যন্ত মদরিচ গোল করেছেন ২১ টি । 

করিম মোস্তফা বেনজেমা

করিম বেনজেমা একজন ফরাসি পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। যিনি বর্তমানে স্পেনের পেশাদার ফুটবল লিগের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়
হিসেবে খেলেন। তিনি মূলত কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে ডান পার্শ্বীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এবং বাম পার্শ্বীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। 
তিনি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর রিয়াল মাদ্রিদের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিনিও ২০২২ বিশ্বকাপ দিয়ে শেষ করতে চলেছেন নিজের জাতীয় দলের খেলা । ৩৪ বছর বয়সে করিম 
বেনজেমা এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলেছেন ৯৭ টি এবং ৩৭ টি গোল করেছেন তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে । 

নেইমার জুনিয়ার 

নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র,  ব্রাজিলীয় এই পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফরাসি ক্লাব পিএসজি এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। 
তাকে আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম মনে করা হয়। নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে নির্বাচিত হন।
নেইমার জুনিয়ার মূলত পরিচিত তার ত্বরণ, গতি, বল কাটানো, সম্পূর্ণতা এবং উভয় পায়ের ক্ষমতার জন্য। তার খেলার ধরন তাকে এনে দিয়েছে সমালোচকদের প্রশংসা, সাথে প্রচুর ভক্ত । 
অনেকে মানতে না চাইলেও মাত্র ৩০ বছর বয়সে নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন এই ব্রাজিলীয় । এখন পর্যন্ত নেইমার জুনিয়ার মোট ১১৩ টি ম্যাচ খেলে ৬৯ গোল করেছে ব্রাজিলের হয়ে । 

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ছোট দলের এই বড় তারকা একজন পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং পর্তুগাল জাতীয় দলে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে থাকেন।
প্রায়ই বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য হয় রোনালদোকে । পাঁচটি ব্যালন ডি’অর এবং চারটি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু অর্জন করেছেন 
এই পর্তুগিজ, যা এখন পর্যন্ত কোন ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক। রোনালদোর চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বাধিক ১৩৪টি গোল এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বাধিক ১২টি গোলের রেকর্ড রয়েছে। 
তিনি অল্পসংখ্যক খেলোয়াড়দের একজন,  যারা ১,১০০টির উপর পেশাদার খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৯০টির বেশি গোল করেছেন। 
তিনি ১০০টি আন্তর্জাতিক গোল করা দ্বিতীয় পুরুষ ফুটবলার এবং প্রথম ইউরোপীয়। রোনালদো তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন এবারের কাতার বিশ্বকাপ এর মধ্যে দিয়ে ।

লিও মেসি

লিওনেল আন্দ্রেস মেসি, একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় । যিনি ফরাসী ক্লাব পিএসজি এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।
তিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেসি প্রায়শই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসাবে বিবেচিত এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের মধ্যেও একজন ।
৩৫ বছর বয়সি এই ফুটবল যাদুকর তার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন ২২ বিশ্বকাপের মধ্যে দিয়েই । ১৭ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে খেলেছেন মোট ৪টি বিশ্বকাপ । ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফাইনাল এ 
গেলেও ছুয়ে দেখা হয়নি স্বপ্নের কাপটি । তাই বলাই যায় নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে নিজের সবটুকু দিয়ে দিবেন মেসি । এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ ১৫৮ ও ৮০ গোল নিয়ে 
শীর্ষ গোলদাতা মেসি
 

৩. সবথেকে দামি বিশ্বকাপ হতে চলেছে কাতার ২২


২০২২ বিশ্বকাপ দিয়ে খরচের দিক দিয়ে সবথেকে দামি বিশ্বকাপ হতে চলেছে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ । প্রায় ২১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করছে কাতার এই বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য । 
এর আগে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য খরচ করেছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যেটি কাতারের থেকে অনেক কম । কাতার মূলত বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সেরা প্রযুক্তি দিয়ে 
তৈরি করেছে একাধিক মাঠ । এছাড়াও খেলোয়ারদের থাকা ও আসরটি দেখতে আশা সকল দর্শকদের জন্য, একদম পুরো দেশকে নতুন করে সাজিয়েছে দেশটি । 


৪. মরুর দেশ এ বিশ্বকাপ 

আমরা সবাই জানি কাতার অবস্থিত মরুভূমিতে । যার কারনে এখানে সব সময় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৪০ ডিগ্রির উপরে । আর এই অতিরিক্ত গররে বিশ্বকাপ আয়জন এই প্রথম যদিও 
মাঠে খেলার সময় খেলোয়াড় বা দর্শক কেউ গরম বুঝতে পারবেন না কাতারের প্রযুক্তির কাছে । তাই এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্যও কাতার বিশ্বকাপকে রাখা হবে সেরা বিশ্বকাপের তালিকায় ।



৫. শীতকালে প্রথম বিশ্বকাপ 


২০২২ কাতার বিশ্বকাপ হতে চলেছে ইতিহাসের সর্বপ্রথম শীতকালীন সময়ে বিশ্বকাপ । এর আগে বিশ্বকাপ হতে দেখা যেত জুন-জুলাই মাসে কিন্তু এই প্রথম আমরা এই জনপ্রিয় আসরটিকে দেখতে চলেছি শীতকালে বা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে যে সময়ে পুরো পৃথিবীতে শীত পরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কোথাও -৫০ ডিগ্রি তো কোথাও -৬০ ডিগ্রি তাই এবারের বিশ্বকাপ হতে চলেছে একটু ভিন্ন । সারা দুনিয়াতে এই সময়ে শীতকাল থাকলেও খেলোয়াড়দের কে খেলতে হবে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়, কেননা কাতারে সেই সময় এটায় থাকে সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা । 

আরো অনেক কারন আছে এই ২০২২ বিশ্বকাপ এর আলাদা ও বিশেষ হওয়ার কিন্তু উপরের বিষয়গুলো সব থেকে বেশি আলোচিত । এখন পর্যন্ত যতগুলো আসর হয়েছে কাতার বিশ্বকাপ যে সবথেকে আলাদা তা বলতে আর বাকি থাকে না । 

তাই এই বিশ্বকাপে এবার চোখ থাকবে শত শত কোটি মানুষের । পৃথিবীর প্রায় ৫০ শতাংশ বা ৩৫০ কোটি মানুষ সাক্ষী হতে চলেছে এই বিশ্বআসরের । 

এছাড়াও কোটি কোটি দর্শক বিদায় জানাতে চলেছেন তাদের প্রিয় খেলোয়াড়কে যেটা কিনা অনেকটা দুঃখের হতে চলেছে । তা ছাড়াও শেষবারের মতো ৩২ দলের অংশগ্রহনে বিশ্বকাপ দেখবে ভক্তরা । তাই উক্ত কারণ গুলোর জন্য বলাই যায় যে ২০২২ বিশ্বকাপ হতে চলেছে ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ । 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ