Header Ads

বাংলাদেশী বোলারদের করা দ্রুততম ৫ ডেলিভারি

এক সময় বাংলাদেশের ক্রিকেট মানেই ছিল শুধুই স্পিন। কিন্তু গত দুই দশকে টাইগারদের ডেরায় গতির যে বিপ্লব ঘটেছে, তা বিশ্ব ক্রিকেটকে অবাক করে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের পেসাররা কেবল সুইং নয়, বরং ১৪৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে ব্যাটসম্যানদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করছেন। আজ আমরা জানবো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গতির ঝড় তোলা শীর্ষ ৫টি ডেলিভারি সম্পর্কে।



৫. শরিফুল ইসলাম

তালিকার ৫ নম্বরে আছেন দীর্ঘদেহী বামহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচে তিনি তার ক্যারিয়ারের দ্রুততম ডেলিভারিটি করেন। গতির মিটারে সেই বলটির গতি ছিল ১৪৫.০ কিমি/ঘণ্টা । ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা এবং বামহাতি অ্যাঙ্গেলের কারণে তার এই গতি ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ।


৪. মাশরাফি বিন মর্তুজা

মাশরাফি বিন মর্তুজা—যাকে আমরা অধিনায়ক হিসেবে চিনি, কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ছিলেন এক ‘গতি দানব’। ২০০১ সালে নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত একটি টেস্ট ম্যাচে ১৭ বছর বয়সী মাশরাফি ১৪৮.০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করেছিলেন । ইনজুরি তার গতি কমিয়ে দেওয়ার আগে তিনি নিয়মিতভাবে ১৪০-১৪৫ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ।

৩. রুবেল হোসেন

তালিকার ৩ নম্বরে আছেন স্লিংগি অ্যাকশনের জন্য পরিচিত রুবেল হোসেন। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি ১৪৯.৫ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করেছিলেন । তার বৈচিত্র্যময় গতির কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের দ্রুততম বোলারের তকমা নিজের কাছে রেখেছিলেন । বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপে নিয়মিত ১৪৫ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করে তিনি ইংল্যান্ডের পতন নিশ্চিত করেছিলেন ।

২. তাসকিন আহমেদ

আধুনিক বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রধান সেনাপতি তাসকিন আহমেদ আছেন ২ নম্বরে। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিডনিতে তিনি মাশরাফির দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দেন। সেই ম্যাচে কুইন্টন ডি কককে করা একটি ডেলিভারিতে তাসকিনের গতি উঠেছিল ১৪৯.৫৬ কিমি/ঘণ্টা । ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে আসার পর তাসকিন এখন নিয়মিত ১৪০-১৪৫ কিমি/ঘণ্টার আশেপাশে বল করেন ।

১. নাহিদ রানা

তালিকার শীর্ষে থাকা নামটি এখন বাংলাদেশের গতির নতুন রাজা—নাহিদ রানা। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে তিনি যা করেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কেউ করতে পারেনি। সেই টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ১৫২.০ কিমি/ঘণ্টা গতি স্পর্শ করে ইতিহাস গড়েন । তার এই বিধ্বংসী গতির সামনে বাবর আজম এবং সউদ শাকিলের মতো ব্যাটাররাও শট খেলতে দেরি করছিলেন । তিনিই প্রথম বাংলাদেশী বোলার যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫০ কিমি/ঘণ্টার গণ্ডি পার করেছেন ।


বাংলাদেশের এই গতির অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে, টাইগাররা এখন গতির বিশ্বেও রাজত্ব করতে প্রস্তুত। নাহিদ বা তাসকিনরা কি পারবেন ১৬০ কিমি/ঘণ্টার মাইলফলক স্পর্শ করতে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ